Breaking News

সম্পাদকীয়


নয়নত্রয় ভূষিত চারুমুখুম মুখপদ্মপরাজিত কোটিবিধুম ।

বিধুখণ্ডবিমণ্ডিত ভালতটম প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম ।।

    আরাধ্য দেব ভগবান শ্রী কৃষ্ণ এবং মহা শিবরাত্রির কল্যানকর মাহেন্দ্রক্ষণে কল্যাণকর স্বয়ম্ভু নাথ মহাদেবের আশীর্বাদ ধন্য হয়ে শুরু করছি আমাদের প্রথম পথ চলা এবং খবর প্রকাশনা সংস্থা

অন্বেষণ – শব্দটি আজ গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। বিশেষত মহা পরাক্রমশালী বৈশ্যের সম্মুখে তার আজ অবস্থা থরহরি কম্পমানের মতো। সত্য জানার প্রয়োজন নেই আর সত্যের মাধ্যমে জগৎসংসার চলে না – এই বক্তব্যটি বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ব্যতিক্রম থাকে আবার ব্যতিক্রমের ব্যতিক্রমও থাকে। যদি নির্মোহ দৃষ্টিতে ইতিহাসের সত্যানুসন্ধান করা যায় তাহলে প্রত্যেক মুহূর্তে এটিই পরিস্ফুট হবে যে ব্যতিক্রমই ইতিহাসের চালিকাশক্তিরূপে অবতীর্ণ হয় যুগে যুগে। কেউ যদি ব্যতিক্রম না হন, তাঁর চিন্তাধারা যদি সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রবাহিত না হয় তাহলে গতানুগতিকতার এই পৃথিবী দিশা হারাবে সম্পূর্ণ। অধিক বাক্যব্যয়ের প্রয়োজন নেই – তবে ব্যতিক্রমের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। এবং এই ব্যতিক্রমই জ্ঞানান্বেষণে মেতে ওঠে – যা মানুষ ও সমাজকে নব পথের সন্ধান দিতে সক্ষম হয় বা দেওয়ার সম্পূর্ণত প্রচেষ্টা করে। জ্ঞান ও তার অন্বেষণের কাহিনী ততই প্রাচীন যত প্রাচীন এই মহান ভূমি – ভারতবর্ষ। সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে ভারতবর্ষের আর্য সভ্যতা সেই জ্ঞানকেই শ্রেষ্ঠ জ্ঞাত করে পূজা করে এসেছে। তাই জ্ঞানবান, গুণবান ও চরিত্রবান হয়ে ওঠার ওপরেই এতো গুরুত্ব ন্যস্ত হয়েছে। মহামতি কৌটিল্যের লেখনীতে প্রকাশিত হয়েছে সেই বাণী – বিদ্বাতঞ্চ নৃপত্বঞ্চ নৈব তুল্য কদাচন/স্বদেশে বিদ্যতে রাজা, বিদ্বান সর্বত্র পুজ্যতে – নৃপতি ও বিদ্বানের মধ্যে কোন তুলনাই সম্ভব নয়। নৃপতি শুধুমাত্র স্বদেশে পুজিত হন কিন্তু বিদ্যান সর্বত্র্য। ভারতের এই প্রাচীন মর্মবাণীই গঠন করে ধর্মের সংজ্ঞা যা ন্যায়ের ওপরেই ন্যস্ত একমাত্র।
সত্যান্বেষণের এই অমোঘ প্রেরণাই আমাদের এই কর্মযজ্ঞের প্রাণস্বরূপ। ধর্মের মধ্যেই তার অবস্থান – কিন্তু ধর্মের পূর্ণ অর্থের মধ্যে, আচার সর্বস্বতার মধ্যে নয়। ধর্ম সত্যের পথে অগ্রসর হতে অনুপ্রেরণা প্রদর্শন করে, সেই অনুপ্রেরণাই আমাদের একমাত্র পাথেয়।

একটি নিউজ এজেন্সি হিসেবে সমস্ত লব্ধ তথ্য উপস্থাপনা করাই সাধনা আমাদের – যা কোন বিশেষ মত ও পথের অনুসারী নয়। যুক্তির কষ্টিপাথরের মাধ্যমেই তার পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ – মানবহিতের জন্যই। যাতে মানব সমাজের কল্যাণ তাই আমাদের কল্যাণ; যা দেশ ও ধর্ম হিতার্থে অনুসরণের যোগ্য তাই আমাদের আদর্শস্বরূপ। তথ্য যদি যুক্তি-তর্কের এক নব যুগের উন্মেষ ঘটায়; সমস্ত ক্ষুদ্রতা, কলুষতাকে দূরে সরিয়ে সার্বিক চেতনা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, সেই পূর্ণ মানবসমাজই হোক আগামী যুগের অগ্রপথিক। ধর্ম ও দেশমাতৃকাই একমাত্র উপাস্য। জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় পথ চলা প্রারম্ভ হল আমাদের; গড়ে উঠুক জাতীয়তাবাদের নব তরঙ্গ যা ভারতবর্ষকে আরো বলিষ্ঠ করুক, আরো গতিময় হোক রাষ্ট্রের পথ চলা; এক মন্ত্র, প্রজ্ঞার বন্ধনে একই সূত্রে গেঁথে উঠুক সহস্রটি মন। পূণ্য হউক এই সুজলা সুফলা রত্নগর্ভা দেশ মাতৃকা ভারত ভূমের ।

জননী, জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ওঁম শান্তি, শান্তি, শান্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *