Breaking News

“বয়েজ লকার রুম” বিশেষ প্রতিবেদনে কলম ধরলেন শুভঙ্কর চক্রবর্তী এবং রাজর্ষি ভট্টাচার্য ডুয়ো

“নারী স্বাধীনতা বড়ই বাঞ্চনীয় বস্তু ,কিন্তু তাতে মুশকিল এই যে ভদ্রবেশী লুচ্চাদের ঠেকানো যায় না”-ব্যোমকেশের একটি উপন্যাসে লিখেছিলেন শরদিন্দু। এরকমই কিছু লুচ্চাদের নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। সূত্রপাত হচ্ছে “Boys Locker Room ” এই তিনটি শব্দ। যা নিয়েই সরগরম দেশীয় নেটিজেন মহল।্কিন্তু ব্যাপার টা কী ?

দেখা যাচ্ছে একটা ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ যেখানে কিছু উঠতি এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে মিলে বিভিন্ন বয়েসে মহিলাদের ব্যাপারে বিকৃত কুরুচিকর চ্যাট করছে, মহিলাদের কুৎসিত যৌন মন্তব্য বা শারীরিক ভাবে অঙ্গ এবং দেহজ আকৃতি সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে নোংরা আলোচনা করছে । শুধু তাই নয়, সবথেকে ভয়ানক যেটা এই যুবকদের তৈরি করা গ্রুপের মধ্যে যারা মহিলাদের সাথে যৌনতা মুলক চ্যাট বা কথা বলে তাদের ঘনিষ্ট অবস্থার সুযোগ নিয়ে উলঙ্গ ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করছে এবং সেই ছবি,ভিডিও গুলো নিজেদের গ্রুপে শেয়ার করছে । শুধু তাই নয়, একটি স্ক্রীনশটে এরকমও দেখা যাচ্ছিল, যে কয়েকটি ছেলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজেদের মধ্যে। এবং এতেই থেমে নেই তারা। সেই ছবি গুলো গুগল ড্রাইভে আপলোড করে ছড়ানোও হচ্ছে ব্যাপক হারে। এবং যে মহিলারা যৌনতা মুলক সম্পর্কে যেতে রাজি হচ্ছে না তাদের পারিবারিক বা নর্মাল ছবি ফটোফপ  করে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেকোনো পর্ন ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া নগ্ন নারীর ছবিতে ।

এতো গেলো দিল্লির কথা। কলকাতাও পিছিয়ে নেই। এককালে বলা হতো ভারতবর্ষ আগামীকাল কি ভাববে সেটা বঙ্গ একদিন আগেই ভেবে নিত, সেই ট্রাডিশন না থাকলেই কিছু ক্ষেত্রে বঙ্গের কিছু যুবক সেই ভাবধারা এগিয়ে নিয়ে চলেছে। যদিও তা বিকৃত রুপ মাত্র। এখানেও দেখা যাচ্ছে কিছু যুবক, মহিলাদের সাথে যৌনতা মুলক কথা বা চ্যাটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি, গুগল ড্রাইভে সেভ করছে এবং নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করছে। এবং আরো বিস্ময়ের ব্যাপার যেটা, তা হল , তারা প্রত্যেকেই রীতিমতো নামী দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, যে দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী। যেখানের ছাত্র ছাত্রীরা বাকি রাজ্যের সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের কুলীন কলেজে পড়াশুনো করার জন্য হেনস্থা করে বলেন ” আগে ভর্তি হয়ে দেখা” ।

ছেলেরা এসব করছে, মহিলারাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? অতএব তাদেরও কিছু একটা করতেই হয়। সবাইকে অবাক করে আরেকটি ছাত্রী অধ্যুষিত গ্রূপের খবর এসেছে যেখানে মহিলারা ছেলেদের ছবি মর্ফ করে জান্তুব উল্লাস করছে- যে ছেলে তাদের চ্যাটে রিপ্লাই দেয়নি, তাদেরকে সমকামী বলে বন্ধু মহলে দুর্নাম করতেও ছাড়ছে না তারা।

খুব স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সমাজের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এহেন বিকৃত হলো কি করে?  কলকাতার নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ছাত্ররা এরম বিকৃত মানসিকতার হলে তার দায় কাদের ?? প্রশ্ন আসছে ?? পুঁথিগত শিক্ষা আর মূল্যবোধের শিক্ষা তাহলে সত্যিই এক নয়!! নাকি সমাজের উঁচু স্থানে থাকা এবং আর্থিক দিক থেকে প্রচন্ড স্বচ্ছল পারিবারিক ঠুনকো মুল্যবোধ তাদের এইসব ভাবাতে বাধ্য করছে ? এর আগে আমরা উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানদুটির ছাত্র ছাত্রীদের নানা ধরনের বিতর্ক মূলক কাজে জড়াতে দেখেছি। কখনো বিপ্লবের নামে অন্তর্বাস বিপ্লব, বা কখনো রাস্তায় চুমু খাওয়ার দাবীতে আন্দোলন। অথবা কখনো রজস্বাবা মহিলার ব্যাবহার করা স্যানিটারি নিয়ে দেবী দুর্গার অপমানসুচক বিপ্লব।

কিন্তু এগুলি কি আদৌ নারীস্বাধীনতার দাবিতে নেওয়া কর্মসূচি নাকি শুধুমাত্র বিতর্ক বাঁধিয়ে লাইমলাইটে আসার জন্য, যৌবনদ্দ্বত  জীবনের পরিচিতি পাওয়ার জন্য চমক?  কেন বারবার শুধু বাম এবং অতিবাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই মিট্যু-র অভিযোগে অভিযুক্ত হোন ? সামাজিক গবেষকদের ভাবাতে বাধ্য করছে।  উল্লেখ্য যে এর আগে একটি ছাত্রী এও অভিযোগ করেছিল যে বিজেপির রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন এবিভিপির ছাত্রদের ফাঁসাতে তাকে মিথ্যা শ্লীলতাহানির কেস খাওয়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বাম ছাত্রনেতাদের তরফ থেকে। বাম রাজনীতি কি আজ এতটাই অন্তঃসার শূন্য হয়ে পড়েছে যে আজ এইসব পন্থা নিতে হচ্ছে ? নীতিহীন, মূল্যবোধহীন রাজনীতি যে কিরকম সামাজিক অবক্ষয়ের জন্ম দেয় তা তো সর্বজনবিদিত। নাকি নিভে যাওয়া প্রদীপের একটু বেশি মাত্রায় জ্বলে ওঠার প্রচেস্টার মতই আগামীতে হারিয়ে যাওয়ার সুস্পস্ট লক্ষন?

আরো কয়েকটি প্রশ্ন ওঠে আসে। সুস্থ শিক্ষিত এবং সম্ভান্ত পরিবারের মহিলারাই বা কেন কয়েকদিনের পরিচয়েই কোনো ছেলেকে নিজেদের ঘনিষ্ঠ বা অন্তরঙ্গ মুহুরতের ছবি কেন পাঠায়? কেন তারা ন্যূনতম সতর্কতা নেয় না? এই ব্যাপারগুলো কি এতটাই সাধারণ সে নুন্যতম শারীরিক সুরক্ষা বা সম্মান রক্ষার দায়ও নিজের কাঁধে নিতে চাই না তারা। কী শিখছে এই প্রজন্ম? স্বাধীনতা আর স্বেচ্ছাচার কি একই বস্তু? কী শিখছে এই প্রজন্ম, তথাকথিত লিবারেল বাম ঘেঁষা রাজনীতির ফাঁদে পড়ে কেন তারা ন্যূনতম মূল্যবোধ বিসর্জন দিচ্ছে?

প্রশ্ন থাকবে। উত্তর খোঁজাও জারী থাকুক। অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগেই উত্তর খুঁজে পাওয়া জরুরি। আগামীর স্বার্থে। আমার আপনার পরিবারে আরো একটি ক্ষুদের মানসিক বিকাশের স্বার্থে। ভাবুন ভাবুন-ভাবা প্রাকটিস করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *