Breaking News

সত্যিই কি দেবরাজ ইন্দ্র এরকম ? কি বলে বেদ পুরাণ ? আসুন জেনে নেওয়া যাক ইতিহাস

বেদের ইন্দ্র হলেন স্বয়ং পরেমেশ্ব। প্রাচীন ভাষ্যকার যাস্কের মতে ইন্দ্র নামের ব্যুৎপত্তি ঐশ্বর্য্যবাচক ইন্দ্ ধাতু থেকে ইন্দ্র।কিন্তু ইন্দ্রের সামান্য পরিচয় মাত্র বেদে ইন্দ্র সর্বত্র ইন্দ্র স্তুতি গুলি পাঠ করলে ইন্দ্র নামটি পরমেশ্বর সূচক সেটা অনুধাবন করা যায়, ইন্দ্র যে জগতের ঈশান বা ঈশ্বরে একটি প্রশংসা সূচক নাম তার পরিচয় সংহিতায় খুবই উজ্জ্বল। সর্বাধিক ঐশ্বর্য্য একমাত্র পরমেশ্বরেরই, তাই “ইন্দ্র” শব্দের প্রধানর্থ হল পরমেশ্বর।তিনি দেবলোকের স্বর্লোকের বা জ্যোতির্লোকের অধিপতি, মহাপরাক্রমশালী যোদ্ধা, শত্রুবিমর্দক,বৃত্রসংহারক এবং সোমরসের মত আপ্লুত আনন্দময় পুরুষ।

দেবতা,যজ্ঞ,বৃত,গো, গোধচুরি,অসুরবধ,সোমরস ইত্যাদি শব্দগুলি মূলত প্রতীক ভাবনা রূপেই ঋগ্বেদে স্থান পেয়েছে।এদের প্রতীকী তাৎপর্য সম্পর্কে সবসময় সজাগ সচেতন না থাকলে বেদমন্ত্র গুলি মর্মার্থ অনুধাবন করা প্রায়ই সম্ভব হয় না।
দেবতা হলেন বস্তুর অন্তর্নিহিত শক্তির প্রতীক। যজ্ঞ হল বৃহৎ কর্মের প্রতীক।
বৃত্র হল সেই আবরণী শক্তি যা আমাদের সত্তার সহজ ও শুভঙ্কর বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়।জড়তা তামসকে আঘাত না করলে তা থেকে বিদ্যুতের ঝলক বা বর্ষার বারিধারা নেমে আসে না।পরমেশ্বররূপী ইন্দ্র আমাদের ভিতরে অন্তর্য্যামীরূপে বিরাজ করে এই কাজটি করেন।তাঁর ই প্রসাদে গোধন চুরি নিবারিত হয়।বেদে “গো” শব্দের মুখ্য অর্থ রশ্মি বা আলো।বৃত্র বালা বা পণির নামের অসুরদের কাজই হল জীবনকে সঙ্কুচিত আড়ষ্ট ও পঙ্গু করা।তাদের কবল থেকে যখন ইন্দ্ররূপী পরমেশ্বরের প্রসাদে মুক্ত হই তখন আমাদের যে আনন্দ ও উল্লাস সেটিই সোমরসপানের মধ্য দিয়ে প্রকটিত।সোমলতার পাতা ছেঁচে রসপান নিতান্তই প্রতীকী ব্যাপার মাত্র।আমাদের সত্তার দিব্য রসঘন অবস্থানটি আমাদের সর্বকর্মের অনন্য লক্ষ্য।

ইন্দ্র সকল অশুভ শক্তি বাধাবিপত্তি ব্জ্রাঘাতে বিদীর্ণ করে আমাদের জীবনে আনন্দবর্ষণ করেন।মেঘের মধ্যে যে বারি পূঞ্জীভূত হয়ে আবদ্ধ,আকাশের বজ্র বিদারণে সেই বদ্ধাবস্থা ঘুচিয়ে মর্ত্যে বৃষ্টি নামিয়ে জীবজগৎকে তিনি সঞ্জীবিত করে তোলেন। বৃত্র হল সেই দস্যু বা অসুর যা আমাদের চিত্তের গভীর অন্ধকারের ফাঁকেফাঁকে নানাভাবে লুকিয়ে থাকে, যারা আমাদের ভিতর থেকে আমাদের সকল শুভ কর্ম এবং উদ্যোগে বাধা দেয়,অজ্ঞানান্ধকারে আচ্ছন্ন করে আমাদের আড়ষ্ট পঙ্গু নির্জীব এবং ক্লীব করে ফেলে। বজ্রের আলোকের তেজ এবং নাদের নির্ঘোষ সেই বৃত্রাসুরকে বধ করে।

ঋগ্বেদে ইন্দ্রদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত সূক্তসংখ্যা সর্বাধিক সমগ্র ঋগ্বেদের প্রায় তিরিশ শতাংশ সূক্তেরই দেবতা ইন্দ্র।সকল গোত্রীয় ঋষিরাই ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে সূক্ত রচনা করেছেন।সব স্থানেই তাঁর এই অভিন্ন মূর্তি।দেবতারূপে যিনি স্বর্গাধিপতি ইন্দ্র, অধিভূতরূপে যিনি হলেন আকাশে বজ্রবিদ্যুৎ, অধ্যাত্মরূপে তিনিই হলেন আমাদের সর্বেন্দ্রিয়ে অধিষ্ঠিত অন্তর্য্যামী পরমেশ্বর।

কিন্তু অবাক হতে হয় বিশেষত পুরাণাদিতে এবং মহাকাব্য দেখলে, সেখানে ইন্দ্র নামক দেবরাজের যে উল্লেখ পাই তা একেবারেই কলঙ্কিত। বেদের ইন্দ্র হলেন সেই ইন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র। আমাদের কাছে এখন তো ইন্দ্র কেবল ভোগবাদের প্রতীক।এই দৃষ্টির সংশোধন একান্ত আবশ্যক নাহলে যুগে যুগে আমাদের অধঃপতন আরো দ্রুতগামী হবে।

উত নঃ সুভগাঁ অরিঃ
বোচেয়ুর্দস্ম কৃষ্টয়ঃ
স্যামেদিন্দ্রস্য শর্মণি।।

হে শক্রবিমর্দক ইন্দ্রদেব, এমন কি বিরোধীরাও আমাদের সৌভাগ্যশালী বলুক এবং আরো বলুক, ইন্দ্রদেবের শরণে তোমাদের সুখশান্তি হোক। (ঋগ্বেদ সংহিতা, প্রথম মণ্ডল, চতুর্থ সূক্ত, ৬ মন্ত্র)

ভাষ্য :- বিরোধী নাস্তিকের ভাবটি, এই, তোমার ঈশ্বর কি করতে পারেন?– যা নেই তার পিছনে জীবনভর তুমি মূর্খের মতন ছুটেছ।নাস্তিক ও আস্তিকের এই বিরোধ এবং সংঘাত চিরন্তন। কিন্তু আস্তিক যদি নিজের বিশ্বাস নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যপথে অটল অবিচল থাকেন তবে নাস্তিকেরা কালক্রমে প্রতিরোধ বিরোধিরা তুলে নিয়স বলতে বাধ্য হয় আমরা যা করেছি এবং বলেছি রা ভুল।

একটু আবেগজাত এবং দুঃখিত হয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি এখানে নাস্তিক কেবল ঈশ্বর অবিশ্বাসীরা নয়, নাস্তিক বলতে আমি সেই সব স্বার্থবাদী মানুষদের কথা বলছি যারা বেদ কে বিকৃত করে পরমেশ্বরের অন্যতম পবিত্র এবং প্রধান নাম “ইন্দ্র” কে কলঙ্কিত করে চলেছে আর আমাদের সমাজকে ঈশ্বর থেকে বিচ্যুত করে দিচ্ছে নাস্তিকদের মত।

তাই ইন্দ্ররূপি পরমেশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের মনের বৃত্রসংহার করেন।

(অনির্বাণ ও অযাচক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *