Breaking News

কেশরী – এক অসামান্য আদ্যান্ত ভারতীয় বীরগাথার গল্প, পড়ুন রিভিও

ধরুন একটি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ১০০ নয়, ৪৭৬ জন সৈন্যের বিপরীতে ১ জন লড়ছে, ভাবুন একবার! সাহায্য পাবার কোনো আশা নেই, পলায়ন ব্যতীত মৃত্যুই একমাত্র পথ, তবু নিশ্চিত নিয়তিকে উপেক্ষা করে বীরত্বের পথ বেছে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এক অসম যুদ্ধ লড়ে যাওয়া, ভাবা যায়? এমনটাই হয়েছিল সারাগারহির যুদ্ধে। ইতিহাসের কোনো এক পৃষ্ঠার ভাঁজে চাপা পড়া বিস্মৃতপ্রায় এক যুদ্ধ, সারাগারহির যুদ্ধ।

এই যুদ্ধ ছিল ১০ হাজার আফগান সেনার বিরুদ্ধে তত্কালীন ব্রিটিশ আর্মির ৩৬ তম রেজিমেন্টের (বর্তমান ইন্ডিয়ান আর্মির ৪র্থ ব্যাটেলিয়ন) ২১ জন শিখ সৈনিকের। সংখ্যাটা ঠিকই পড়েছেন। এ যুদ্ধে শিখ ও আফগান সৈন্যের অনুপাত ছিল ১: ৪৭৬। তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাবতীয় অস্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর , শেষ অস্ত্র হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকে কেবল ‘সাহস’। এই অসামান্য সাহসিকতার কাহিনি ইতিহাসে ‘সারাগারহির যুদ্ধ’ নামে খ্যাত। বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত খাইবার পাখতুনখোয়াতে ১৮৯৭ সালের এই লড়াইয়ের কাহিনিই তুলে ধরেছে ‘কেশরী’।

গল্প শুরু হচ্ছে ব্রিটিশ ভারতের প্রেক্ষাপটে। যেখানে ব্রিটিশ পুলিশের অধিনস্ত হয়ে কাজ করেন হাবিলদার ইশার সিং (অক্ষয় কুমার)। তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের পাখতুনখোয়াতে ৩৬ শিখ রেজিমেন্টের সদস্য তিনি। একবার এক মহিলার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাজের সূত্রেল কিছু আফিগান যুবকের সঙ্গে তাঁর বিবাদ হয়। বিবাদ কিছুতেই ভুলতে চায়নি আফগানরা। এরপর আফগান উপজাতির হঠাৎই এক রাতে ব্রিটিশ সেনারক বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষমা করে এলাকার সারাগারহির দূর্গ আক্রমণ করে। আর সেই আক্রামণ ঘিরেই ছবির চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে।

আরও একবার দর্শকে চমক দিলেন অক্ষয় কুমার। তবে গোটা ছবিতে কেবলমাত্র অক্ষয় কাঁধকেই পোক্ত বলে মনে করা হচ্ছে! ছবি যতটা ধীর গতিতে শুরু হয়েছিল, শেষ ২০ মিনিট ততটাই চমকপ্রদ। তবে ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়ের পর্দা উন্মোচন করে কাহিনিবিন্যাসের অনেক জায়গাতেই ফাঁক রেখে গিয়েছেন অনুরাগ সিং।

কেশরী রঙ হোক উজ্জ্বল। 21 জন শিখ যোদ্ধা র বীরত্বে উদ্ভাসিত হোক দিক দিগন্ত। একটি সত্য ঘটনাকে কোন অতিরঞ্জিত না করে একটি দুর্দান্ত সিনেমা জন্য টিমকে অভিনন্দন

আমাদের রিভিও ৮/১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *