Breaking News

সামাজিক লকডাউনের মধ্যেই নিঃশব্দে সমাজের প্রতিটি স্তরে সেবা এবং সাহায্যের মহান ব্রত নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তারা

করোনার জ্বরে সমগ্র ভারতবর্ষ এখন কাবু। লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। না আবিষ্কার হয়েছে এর প্রতিষেধক আর না আবিষ্কার হয়েছে কোন নিরাময়ের উপায়। আক্রান্ত না হওয়ার উপায় একটাই তা হল কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা। সর্বনিম্ন এক মিটার দুরত্ব বজায় রাখা,ভিড় তৈরী না করা,স‍্যানিটাইজার ব‍্যাবহার করা এবং খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে না বেরোনো।
আর ঠিক এর নিরিখেই ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ১৫ দিন এবং পরে তা বাড়িয়ে ৩রা মে পর্যন্ত সমগ্র ভারতবর্ষে লক ডাউন ঘোষনা করেন। বন্ধ হয়ে যায় যান বাহন পরিসেবা থেকে শুরু করে সমস্ত রকম বিনোদন,অনেক দৈনন্দিন পরিসেবা‌। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন এসেনশিয়াল নীড(বাজার,মুদী, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল) বাদে লকডাউনে আর কোনো পরিষেবাই পাওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রয়োজনীয় ছিলো বলেই দেশবাসী মনে করছে। এই রায়ে উচ্চবিত্ত,মধ‍্যবিও পরিবারগুলোর যতট না সমস্যা হয়েছে , সর্বচ্চ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নিম্নবিত্ত বা দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা মানুষগুলো।যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কর্ম সংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অনেকেই মানসিক ও আর্থিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি এটাই ছিলো, “লকডাউন না হলে রোগে মারা যেতাম,লকডাউন হওয়াতে না খেতে পেয়ে মারা যাবো।” এই সাধারণ দরিদ্র মানুষদের কথা চিন্তা করে কেন্দ্র তথা রাজ‍্যসরকার যেমন রেশনের ব‍্যাবস্থা করেছে তেমন রামকৃষ্ণ মিশন,ইসকন আরো অনেক বড় বড় এনজিও নিজদের ত্রাণ শিবির চালু করেছে। এই বড় বড় সংস্থাগুলো নিজেদের সাধ‍্যমত সাহায্য করছে আর তা আমরা অনেক ক্ষেত্রেই স‍্যোশাল মিডিয়া বা টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ।

কিন্তু একটা সংস্থা যারা নিরলসভাবে লকডাউনের শুরু থেকে দিন রাত মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে প্রচারের চাহিদা না রেখে আমাদের নিউজ পোর্টাল আজ তাদের কর্মসূচি এবং মানুষের সাহায্যে তারা কতটা তৎপর তা তুলে ধরছে। কথা বলে নিলাম হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের সাথে।
তিনি জানালেন লকডাউনে তাদের কর্মসূচির বিষয়ে। অল্পকিছুদিনের মধ্যেই হিন্দু সংহতির সদস্য এবং কর্মী সংখ‍্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রতি জেলাতেই কম বেশী সদস্য আছে যারা হিন্দু সংহতির হয়ে মানুষের কাছে কাছে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খাদ‍্য,মাস্ক,স‍্যানিটাইজার পৌঁছে দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, দলীয় মহিলাও এই মহান যজ্ঞে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছেন এবং সাহায্য করছেন। আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে তিনি জানান প্রত্যেক সদস্যের কাছে মাসিক মাত্র ১০ টাকা দান স্বরুপ গ্রহণ করেই এই সুবিশাল মহৎ ব্রত সম্পন্ন করছেন তারা এবং এছাড়াও কিছু ডোনেশন বা সাহায্য তারা মাঝে মাঝে পান, সব মিলিয়েই এই কর্মযজ্ঞ

এই লক ডাউনে সাধারণ মানুষ যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে তাদের যেন কোন সমস্যা না হয় সেই দিকে নজর রাখার চেষ্টা করছে হিন্দু সংহতি। প্রত‍্যন্ত গ্রামে যেখানে অন‍্যান‍্য সাহায্যকারীরা পৌঁছতে পারেন নি সেখানেও হিন্দু সংহতি সাধারণ মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দেবতনু বাবু জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং হিন্দু স্বার্থে ওনারা সবসময়ই তৎপর। কাজ করার জন‍্য আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন হয় না বলেই জানালেন তিনি। ওনার মতে মানুষের স্বার্থে এবং হিন্দু স্বার্থে নির্দ্বিধায় কাজ করলে তা মানুষের কাছে এমনিই প্রচার পাবে। উনি এ ও জানিয়েছেন যে কোন দুরবস্থায় যাতে হিন্দুরা কোন রকম আইনি বা খাদ‍্য সমস্যায় না পড়ে সেই দিকে নজর রাখছে হিন্দু সংহতি।এই লকডাউনে কোন বাঁধা ধরা পরিমাপ নিয়ে মানুষকে সাহায্য করছেন না তারা বরং যার যতটুকু প্রয়োজন হিন্দু সংহতি নিজের সাধ‍্যের মধ্যে কাজ করছে।উনি জানালেন সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া উনি এই সংগঠন কে নিয়ে এতদূর এগোতে পারতেন না। সংগঠনের সদস্যরা যে যার সাধ‍্য মত সবসময়েই অনুদান দিয়ে সাহায্য করেছেন। এছাড়াও এমন কিছু মানুষ আছেন যারা নিঃস্বার্থ ভাবে হিন্দু সংহতির এই ভালো কাজে এগিয়ে এসেছেন। দেবতনু বাবু এ ও জানিয়েছেন যে ওনারা হিন্দু স্বার্থে কথা বলেন এবং সমস্ত হিন্দু দের এক ছত্রছায়ায় আনাই হিন্দু সংহতির উদ্দ্যেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *