Breaking News

জানেন কি রাজা ললিতাদিত্যের কথা ? কাশ্মীরের রাজা ললিতাদিত্য প্রাচ্যের আলেকজান্ডার

৭১২ খ্রীস্টাব্দে মহম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু অধিকার করে কিন্তু ভারতে অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে মুসলিমদের আরো ৩০০ বছর অপেক্ষা করতে হয়।দশম শতাব্দীতে ধীরে ধীরে ভারতের বহু অংশ মুসলিম শাসনের আওতায় আছে। মুসলিমদের ভারত অধিকার অন্যতম কারণ হল ভারতীয় রাজাদের অনৈক্য ও নিজেদের মধ্য অভ্যন্তরীণ প্রাদেশিক কলহ, যা ভারতীয় হিন্দু সমাজে এখনো বর্তমান।

থাক সেকথা, আমরা ভারতের ইতিহাস যখন পড়ি তখন বাবর,শাহাজাহান, আকবর এইসব শাসকদের কথা পড়ি।স্বাধীন ভারতে রাজনৈতিক নেতারা কেবল মাত্র মুসলিম তোষণের জন্য বর্বর বিদেশী শাসকদের গুণকীর্তন করে ভারতের আসল ইতিহাসকে আমাদের থেকে অজ্ঞাত করে রেখেছে।

এমন অনেক রাজা মহারাজারা এই ভারতবর্ষে জন্মে ছিলেন এবং গৌরবের সঙ্গে শাসন পরিচালনা করেছেন তবুও তাদের নাম আমাদের কাছে অজ্ঞাত। এমন এক রাজা হলেন কাশ্মীর রাজ ললিত্যাদিত্য যাকে বিদেশী ঐতিহাসিকরা ভারতের আলেকজান্ডার নামে অভিহিত করে থাকেন।

আমরা কত জন ললিতাদিত‍্যের নাম জানি? বেশিরভাগ লোক‌ই জানে না তিনি কে এবং তাঁর কীর্তি কি! ললিতাদিত‍্য কাশ্মীরের এক বীর রাজা ছিলেন। ভারতের একজন অনতম সাহসী রাজা । কিন্তু স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ইতিহাস বইতে স্থান পায়নি । যার ফলে আমাদের তিন চার প্রজন্ম এনার কোন খবর‌ই জানে না ।

ললিতাদিত‍্যের পিতার নাম দুর্লভ- প্রতাপাদিত্য। নাগবংশী কার্কোট কায়স্থ রাজ বংশে ললিতাদিত‍্যের জন্ম হয় ৬৯৯ খ্রীষ্টাব্দে। কার্কোট কায়স্থরা অসাধারন সাহসী ছিলেন,এরা বংশানুক্রমে যুগযুগ ধরে কাশ্মীর রাজের সেনাবাহিনী তে যোগদান করতেন।
ললিতাদিত‍্য তার পিতার তৃতীয় সন্তান । তার জন্ম নাম মুক্তপীড়া । তার ওপর দুই ভাইয়ের নাম চন্দ্রপীড়া ও তারাপীড়া। প্রতাপাদিত্য এর মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে চন্দ্রপীড়া সিংহাসন গ্রহণ করেন মাত্র ২০ বছর বয়সে।চন্দ্রপীড়া ছিলেন প্রজাবৎসল ও বীর রাজা। তিনি মাত্র ৭ বছর রাজত্ব করার পর মারা যান।তারপর তারাপীড়া সিংহাসন গ্রহণ করেন ইনার দেড় বছর রাজত্ব করার পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটে ।

বড় দাদাদের মৃত্যু র পর ।৭১৯খ্রীষ্টাব্দে মুক্তাপীড়া সিংহাসনে বসেন।তখন তার বয়স ২০। সেই সময় বড় কঠিন সময় ছিল । বর্বর আরব মরুদস‍্যুরা মুলতান, পেশোয়ার ,সিন্ধ দখল করে নিয়ে ছিল।আরব সুলতান মহম্মদ বিন কাসীম পুরো ভারত দখলের চেষ্টায় ছিল ।ললিতাদিত‍্য আরবীদের সাথে যুদ্ধ যাওয়ার আগে নিজের রাজ‍্যের চারপাশের ছোট ছোট জন গোষ্ঠী দের একত্র করলেন ও লাডাখকে তিব্বত রাজের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলেন।

৭৩০খ্রীষ্টাব্দে সিন্ধের শাসক জুনেদ গোটা ভারত দখলের চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু কনৌজ রাজ যশোবর্মন ললিতাদিত‍্য কে সাহায্য করায় সেই চেষ্টা বিফল হয়। এই হিন্দু মিলিত শক্তি আরবদের কাশ্মীরে প্রবেশ বন্ধ করে ।ললিতাদিত‍্য কানে এর মধ‍্যে এসেছিল আফগানিস্তান এ হিন্দুদের উপর আরবীদের অত‍্যাচারের কাহিনী। তাই সেই রাগে তিনি পরাজিত আরবদের মাথা অর্ধেক কামিয়ে দেন পরাজয়ের চিহ্ন হিসাবে।

ললিতাদিত‍্য আরবদের শিক্ষা দেওয়ার জন‍্য দারদিস্থান (উত্তর পাকিস্তান ও উত্তর পূর্ব আফগানিস্তান) , উজবেকিস্তান ও
তাজিকিস্তান অংশ, দখল করেন । এরপর তুর্কেস্তান দখল করেন কাবুল এর উপর দিয়ে গিয়ে।বুখারার শাসক মুমিন ললিতাদিত‍্যের সঙ্গে চারবার লড়ে । কিন্তু একবার ও থামাতে পারনি ললিতাদিত‍্যকে ।শেষবারে বাধ‍্য হয়ে বশ‍্যতা স্বীকার করে ও কর দিতে বাধ‍্য হয়।

কিন্তু আমরা অপদার্থ এই পরাক্রমশালী হিন্দুরাজাকে আমরা জানিনা। আরেকটা কথা ললিতাদিত্যের সঙ্গে গৌরের একটি অম্লমধুর সম্পর্কও আছে। এইগুলি জানুন নাহলে জীবন বৃথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *