Breaking News

সোমবার সন্ধ্যায় স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে বিধ্বংসী আগুনে প্রাণ হারালো নয় জন

সোমবার সন্ধ্যায় স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে বিধ্বংসী আগুনে প্রাণ হারালো নয় জন। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে রয়েছে রেলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার পার্থসারথি মণ্ডল, দমকলের চার কর্মী, পুলিশের এক অফিসার এবং আরপিএফ-এর এক জন। আরও একজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

এই বহুতলেই রেলের অফিস। ঘটনাস্থলে দমকলের ৭টি ইঞ্জিন। স্ট্র্যান্ড রোডে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। সন্ধে ৬.১০ নাগাদ আগুন লাগে বলে খবর। তবে বহুতলে কেউ আটকে নেই বলে অনুমান দমকলের। অগ্নিকাণ্ডের জেরে বাবুঘাট থেকে হাওড়া পর্যন্ত রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ।

বহুতলটির ১৩ এবং ১৪ তলায় আগুন নেভাতে গিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকলকে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে পূর্ব রেলের অন্যতম এই কার্যালয়ে। কীভাবে আগুন লেগেছে এখনও তা স্পষ্ট নয়। চার ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা দূর্ঘটনা ঘটার তা ঘটে গেছে। সন্ধ্যা থেকেই ভিতরে অন্ধকারে বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, কী ভাবে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব, স্পষ্ট নয়। বার বার করে অফিসারেরা উপরে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু, রাত পর্যন্ত উপরে ওঠা যায়নি। সোমবার রাত পর্যন্ত দমকলের দু’টি যন্ত্রচালিত মই কাজে লাগিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে দমকলের প্রাথমিক অনুমান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৪ স্ট্র্যান্ড রোডের বহুতলটির প্রথমে ১৩ তলায় একটি এসি মেশিনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তারপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১৪ তলায়। তবে যখন আগুন লেগেছে, তখন অফিস ছুটি হয়ে গিয়েছে। ফলে ভিতরে খুব বেশি লোকজন ছিলেন না। এই বিল্ডিংয়ের একতলায় রেলের বুকিং কাউন্টার রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্র আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সেখানে। বিভিন্ন তলায় থাকা লোকজন প্রাণভয়ে বিল্ডিংয়ের বাইরে বেরিয়ে আসেন। আশপাশের বিভিন্ন অফিসের লোকজনও রাস্তায় এসে জড়ো হন। প্রথমে ঘটনাস্থলে আসে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন। তবে আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, বাড়ানো হয় ইঞ্জিনের সংখ্যা। একটি হাইড্রলিক ল্যাডার সহ মোট ১৫টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিসবাহিনী। আসে বিপর্যয় মোকাবিলা দলও। তাঁরাও আগুন নেভানোয় হাত লাগান। একে একে দেহগুলিকে উদ্ধার করা হয়। রেল মন্ত্রকের তরফে পূর্ব রেলকে এই ঘটনার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বহুতলের ভিতরে ঢোকার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হয় দমকলকে। বিল্ডিংয়ের সামনে একটি বড় গাছ থাকায় হাইড্রলিক ল্যাডার ভিতরে ঢোকাতে অসুবিধা হয়। ফলে ওই গাছের ডালপালা কাটতে হয় দমকল কর্মীদের। একারণে প্রায় আধ ঘণ্টারও কিছু বেশি সময় আগুন নেভানোর কাজ বন্ধ রাখতে হয়। রাত ৯.৪০ মিনিটে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কিছু জায়গায় ছোট ছোট আগুন থাকায় তারপরেও কাজ চালিয়ে যান দমকলের কর্মীরা। রাতের দিকে ১২ তলাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে আসেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, স্থানীয় বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। ফিরহাদ হাকিম ওঠার চেষ্টাও করেছিলেন। পুরোটা না উঠতে পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হন। সুজিত বসু বলেন, ভিতরে ল্যাডার ঢোকাতে না পারায় প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। দমকল কর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। এই অগ্নিকাণ্ডের পরে এ দিন সন্ধ্যার পরে প্রধানত পূর্ব রেলের সমস্ত ট্রেনের টিকিট বুকিং বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ তলায় এসি ফেটে আগুন লাগে। পাশের এলআইসি বিল্ডিং-এর ক্যান্টিন কর্মীরা প্রথম আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। তখন প্রায় ৫০০ জন রেলের অফিসে ছিলেন বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রেলের অনেক পুরনো ভবন। ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আগুন নেভাতে আসা সাত জনের দেহ (তখনও অবধি) পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনও দু’জনের খোঁজ চলছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন। তাঁরা (মৃতরা) লিফটে করে উঠতে গিয়েছিলেন। সেখানেই আগুন বিদ্যুতের ঝলকের মতো পুড়িয়ে দিয়েছে। খুবই দুঃখজনক। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ ছাড়াও পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সকলেই খুব লড়াই করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।’’

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, তিনি রাতে দমকল ও পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে ১৩ তলায় উঠে নিজে মৃতদেহ দেখে এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘লিফটে উঠে ১৩ তলায় পৌঁছে লিফটের দরজা খোলার পরে আগুনে ঝলসে প্রায় পুড়ে যান তাঁরা। আমরা উপরে উঠে দেখি, লিফটের মধ্যেই পাঁচ জনের দেহ পড়ে রয়েছে। বাইরে পড়েছিল আরও দু’জনের দেহ। পোশাক দেখে বোঝা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে চার জন দমকলকর্মী। এ ছাড়াও এক জন আরপিএফ এবং একজন হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই। একজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়নি।’’

রাত ১টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে ন’টি দেহের সব ক’টি দেহ এসে পৌঁছালে হাসপাতালে মৃতদের কয়েকজনের পরিবার এসে পৌঁছায়। রেলের ডেপুটি সিসিএম পার্থসারথি মণ্ডলের দেহ শনাক্ত করেন তাঁর মেয়ে ও জামাই।

পার্থবাবুর গাড়ির চালক সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘স্যর প্রতিদিনই সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ নীচে নেমে আসতেন। আজ আগুন লাগার কিছু ক্ষণ পর থেকেই স্যরকে ফোন করতে শুরু করি। কিন্তু ফোনে পাইনি।’’ পুলিশ আধিকারিক অমিত ভাওয়ালের দেহও রাতেই শনাক্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ কোনও জায়গায় আগুন লাগলে সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড এর মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই সাত জন দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যে বিল্ডিং-এ আগুন লাগে, সেই বিল্ডিং-এ আগুন লাগার পরেও কী ভাবে লিফট চালু থাকে? লিফট চালু থাকার অর্থ, সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগও ছিল। কিন্তু আগুন লাগার পরেই সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং-এর বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কথা। নয়তো, আগুন বিদ্যুতের লাইনে ছড়িয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

কলকাতা পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র এ কথা জানিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে রেলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার পার্থসারথি মণ্ডল, দমকলের চার কর্মী, পুলিশের এক অফিসার এবং আরপিএফ-এর এক জন রয়েছেন। সকলকে রাত পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।

রাত ১টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে ন’টি দেহের সব ক’টি এসে পৌঁছয়। হাসপাতালে মৃতদের কয়েক জনের পরিবারের লোকজন এসেও পৌঁছন। রেলের ডেপুটি সিসিএম পার্থসারথি মণ্ডলের দেহ শনাক্ত করেন তাঁর মেয়ে ও জামাই। পার্থবাবুর গাড়ির চালক সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘স্যর প্রতিদিনই সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ নীচে নেমে আসতেন। আজ আগুন লাগার কিছু ক্ষণ পর থেকেই স্যরকে ফোন করতে শুরু করি। কিন্তু ফোনে পাইনি।’’ পুলিশ আধিকারিক অমিত ভাওয়ালের দেহও রাতেই শনাক্ত হয়।

রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রেলের অনেক পুরনো ভবন। ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আগুন নেভাতে আসা সাত জনের দেহ (তখনও অবধি) পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনও দু’জনের খোঁজ চলছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন। তাঁরা (মৃতরা) লিফটে করে উঠতে গিয়েছিলেন। সেখানেই আগুন বিদ্যুতের ঝলকের মতো পুড়িয়ে দিয়েছে। খুবই দুঃখজনক। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ ছাড়াও পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সকলেই খুব লড়াই করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।’’

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, তিনি রাতে দমকল ও পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে ১৩ তলায় উঠে নিজে মৃতদেহ দেখে এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘লিফটে উঠে ১৩ তলায় পৌঁছে লিফটের দরজা খোলার পরে আগুনে ঝলসে প্রায় পুড়ে যান তাঁরা। আমরা উপরে উঠে দেখি, লিফটের মধ্যেই পাঁচ জনের দেহ পড়ে রয়েছে। বাইরে পড়েছিল আরও দু’জনের দেহ। পোশাক দেখে বোঝা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে চার জন দমকলকর্মী। এ ছাড়াও এক জন আরপিএফ এবং একজন হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই। একজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়নি।’’ রেলের দুই কর্মী আহত হয়ে শিয়ালদহে বি আর সিংহ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ কোনও জায়গায় আগুন লাগলে সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড এর মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই সাত জন দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যে বিল্ডিং-এ আগুন লাগে, সেই বিল্ডিং-এ আগুন লাগার পরেও কী ভাবে লিফট চালু থাকে? লিফট চালু থাকার অর্থ, সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগও ছিল। কিন্তু আগুন লাগার পরেই সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং-এর বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কথা। নয়তো, আগুন বিদ্যুতের লাইনে ছড়িয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। দমকলমন্ত্রীও এ দিন জানিয়েছেন, কেন লিফট ব্যবহার করা হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে।