Breaking News

ঘুরে আসুন মেঘালয়ের মৌসিনরাম। ঝিরিঝিরি অথবা ঝম বৃষ্টি আপনাকে পাগল করবেই

নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
তুমি নাকি নীল আকাশে বৃষ্টি নামাও?
এ তল্লাটে এসো তো একটু হলে সময়!
কখন থেকে খুঁজছি তোমায়!

মেঘালয় হচ্ছে মেঘেদের বাড়ি। কবিদের অনুপ্রেরনার ও চিত্রকরদের ক্যানভাস। বেড়ানোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা। ২১ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে রাজ্য হিসাবে ঘোষনা হয়। মেঘালয় ছবির মত সুন্দর একটি রাজ্য। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, মেঘের সমাবেশ, জীবনের কিছু রঙ্গিন মুহত্ব কাটানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা। মেঘালয় সেভেন সিস্টার খ্যাত উত্তর পূর্ব অঞ্চলে অত্যতম একটি সুন্দর রাজ্য। মেঘালয় পাঁচটি প্রশাসনিক জেলায় ভাগ হয়েছে- জয়িন্তা পাহাড়, পূর্ব এবং পশ্চিম গারো পাহাড়, পূর্ব এবং পশ্চিম খাসি পাহাড়।

গোটা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় মৌসিনরামে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এমনটাই বলছে। তাই বর্ষাকালে ঝমঝম বৃষ্টি উপভোগ করার অন্যতম ঠিকানা মৌসিনরাম। পূর্ব খাসি হিলের গায়ে রয়েছে এই বৃষ্টি ভেজা গ্রাম। আগে চেরাপুঞ্জিকে বলা হলেও, এখন মৌসনরাম বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিভেজা জায়গা।
মৌসিনরাম’- মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে এই অসাধারণ ঠিকানাটি। পুরোটাই মেঘে ঢাকা। দূর-দূরান্তে যতদূর চোখ চলে শুধু মেঘ আর মেঘ।মেঘ যেন ঘরের ভিতরেরও ঢুকে পড়ে মৌসিনরামে। বর্ষাকালে অপূর্ব রূপ দেখতে পাবেন মেঘালয়ের এই গ্রামে।

মাওজুমবুঁই কেভ , বাজার এলাকার কাছেই পাহাড়ের ঢালু উতরাই পথ ও তার পর কয়েক ধাপ সিঁড়ি পৌঁছে গেছে মাওজুমবুঁই গুহার সামনে। এটি রহস্যে ঘেরা প্রাচীন এক প্রাকৃতিক গুহা। বর্ষার অপরূপ রূপে এটি রূপসী হয় আরও। যখন পৌঁছলাম এই গুহার নিকট আমি মনে হয়েছিল স্বয়ং মহাদেবের গৃহে উপস্থিত হয়েছি।পাথরের ধাপ কেটে সিঁড়ি। একটু নামতেই নানা রং, নাম না জানা কত্ত রকমের অর্কিড, ঘাস, বাঁশ , রংবে রঙের প্রজাপতি আমাকে ঘিরে ধরল। মনে হল ওরা বলছে , “এস এস আমরা তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি শম্ভুর ঘরে”।

 

স্ট্যালাগমাইটের গুহার মাথার ওপর দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বর্ষার ঝর্ণা। সেই ঝর্ণা তলায় মেঘের পালকে ঘিরে ভিতরে দেখলাম শিব মূর্তি।প্রাকৃতিক উপায়ে স্ট্যালাগমাইটে তৈরি শিবলিঙ্গটি এখানকার মূল আকর্ষণ। ঝর্নার ভিতর দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। গুহা কি প্রাচীন !  কত কত কোটি বছরের রহস্য রয়েছে তার মধ্যে। স্থানীয় খাসি সম্প্রদায় জানাল শিব লিঙ্গ নিজে থেকেই তৈরি হয়েছে । কিন্তু কবে কত বছরে আগে তা কেউ জানে না।

গুহার ভিতরে অন্তরনিহিত নদী, ঝর্ণা ঘুম ঘুম শব্দে বহমান। গুহায় ঢুকে মনে হল যেন ওই গুহার দেওয়াল , ওই গুপ্ত নদী, পাথর এসবে হাত দিতে হলে অনুমতি লাগে; স্বয়ংভুর অনুমতি, প্রকৃতির অনুমতি , পাহাড়ের অনুমতি। এছাড়া যেন তাদের ছোঁয়া যায় না ।

শিবলিঙ্গের ঠিক উপরিভাগে থাকা একটি প্রস্তরখণ্ড থেকে জলের ফোঁটা পড়ে। শিবরাত্রিতে এখানে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়। আরণ্যক পরিবেশে গুহার গাম্ভীর্য মুগ্ধ করে তোলে।
পূর্বে এখানে ষোড়শ প্রচারে শিবের উপাসনা হত। এখন গুহার দ্বায়িত্ব অর্পিত হয়েছে সেমেটিক খ্রিস্ট ধর্মের ওপর। তাই শেষ 5 বছর পূজা বন্ধ হয়েছে। এখন তো বিজেপি আসছে মেঘালয়। ওনারা পুনশ্চ বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখবেন আশা করি। সত্যিই স্থানটির অন্য এক স্বর্গীয় মাহাত্ম আছে । ওখানে গেলে দেব ও মানবের একাত্ম হবার অনুভুতিকে উপলব্ধি করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *