Breaking News

কতটুকু জানি আমরা বৈদিক সাহিত্যের ব্যাপারে? সত্যিই কি কিছু জানি ?

বৈদিক সাহিত্য কেবল বিপুল জ্ঞানগর্ভ মন্ত্র আর বৃহৎবৃহৎ কর্মকাণ্ডের কথা বলেনা।এর ভিতরে রয়েছে চিরন্তন জ্ঞানের আপ্তবাক্য, মানবের চিরন্তন জিজ্ঞাসা, তার সমাধান ও আমাদের প্রাচীন সুমহান ইতিহাস।

বিক্ষিপ্ত ভাবে মন্ত্র অধ্যয়ন করে এই জ্ঞানকে অর্জন সম্ভব নয়, চাই ধারাবাহিক অধ্যয়ন এবং একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ। যাতে সংহিতা থেকে ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ যতটুকু আছে, কিছু যেন বাদ না যায়।

সমস্ত বৈদিক সাহিত্য অনুধাবন করবার পরে আমরা বুঝতে পারবো, আমাদের ভারতীয় সভ্যতার গৌরবান্বিত ইতিহাস, যে ইতিহাস আমাদের যেমন দেববাদে একনিষ্ঠ করে তোলে তল তেমনি আমাদের সংস্কারপন্থী জিজ্ঞাসু, কুসংস্কার মুক্ত করে তোলে। আমাদের চারপাশে যত মত পথ দর্শন যোগ, আপাতদৃষ্টিতে বেদবিরুদ্ধ যত মতবাদ দেখতে পাই সবই, বেদকে কেন্দ্র করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমানে বেদ বিরুদ্ধ অনেক বিক্ষিপ্ত অলোচনা দেখতে পাওয়া তাদের মধ্য অন্যতম আলোচনার বিষয় হল, বৈদিক অবৈদিক সংঘাত, পশুবলি, লিঙ্গ উপাসনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে বৈদিক সাহিত্যের চর্চা করলে দেখা যায় এই আলোচনার মাধ্যমে যেসব বেদ নিন্দা করা হয় তা একেবারেই অমূলক।

যদি বৈদিক সাহিত্য ভালো ভাবে অনুধাবন করা যায় তাহলে দেখাযায় বৈদিক অবৈদিক বৈরিতা নিয়ে বর্তমান সমোলচকরা যেইসব আলোচনা সমোলচনার অবতারণা করেন তা একেবারেই অবান্তর বা ইচ্ছাকৃত।

কারণ প্রাচীন আর্য সভ্যতা মূলত যাজ্ঞিক বৈদিক এবং যোগবাদী ব্রাত্য এই দুই ধারার পাশাপাশি সহাবস্থানের ইতিহাস যা বেদে উল্লেখ আছে, যাদের মধ্যে বেদ নির্ভরতা নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও বৈরিতা কখনও ছিলনা।

আর্য সভ্যতায় ঈশ্বর আরাধনার দুটি দিক ছিল একদল ছিল আদিত্যবাদী যারা প্রজ্ঞার পূজারি, এরা প্রত্যক্ষ দেব আরাধনা করতেন, যেমন আদিত্যরূপি সর্বব্যাপক ঈশ্বরকে যা বেদে বিষ্ণুরূপ বোঝানো হয়, সূর্য অগ্নিরূপে প্রত্যক্ষ করে আরাধনা করা হয়।এরা আদিত্যবাদী যাজ্ঞিক আর্য।

আরেক দল আর্য যারা মুখ্যপ্রাণের উপাসনা করতেন, যারা অন্তর অধিষ্ঠিত দেবসত্ত্বার পূজারি, প্রাণ বায়ুর পূজারি, রুদ্রই এখানে প্রধান আরাধ্য এরা যোগবাদী। রুদ্রের পরিচয়, রুদ্র এবং শিব একই তত্ত্বের এপিঠ ওপিঠ, রুদ্র উপাসক ব্রাত্যদের পরিচয় নিয়ে পরে বিষদ ভাবে আলোচনা করবো, আজ রুদ্র বা শিব উপাসনায় যে লিঙ্গোপাসনা দেখতে পাই সেইনিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

শিব লিঙ্গ দেখলেই কিছু মানুষের বিকৃতি যেন অন্যমাত্রায় পৌঁছে যায়, লিঙ্গ একটি কুৎসিত আরাধনা পদ্ধতি যা হিন্দুরা পালন করে ইত্যাদি ইত্যাদি, আবার অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত এইযে লিঙ্গ আরাধনা একটি অনার্য পদ্ধতি যা পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্ম সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

প্রথম মতামত প্রদানকারীদের প্রসঙ্গে বলি, এরা সেইসব প্রজাতির বিকৃত জীব যাদের কাছে জনস্বার্থে প্রচারিত জন্মনিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞাপন বা মহিলাদের মাসিক কালীন সুরক্ষা ব্যবস্থার বিজ্ঞাপন দেখলেও যৌনতা বিকৃতি চরমে পৌঁছায়।

দ্বিতীয় মতামত প্রদানকারীদের প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে তাদের জ্ঞান বিক্ষিপ্ত। তাদের আর্য সভ্যতা এবং সাহিত্য নিয়ে তেমন জ্ঞান নেই বা তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।

লিঙ্গ কথার অর্থ প্রতীক, তো কিসের প্রতীক? প্রথম সূত্র অনুসারে ধরেই নিই, লিঙ্গ প্রজননের প্রতীক। এটা ধ্রুবসত্য প্রজনন প্রাণের একটি মৌল ব্যাপার, তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া চলে না, আর সভ্যতার ঊষালগ্নে আর্যরাও তা করেননি।রির্ংসার ঊধ্বায়নই হল ব্রহ্মচর্য, যা আর্যসাধনার মূল স্তম্ভ।ঊধ্বায়নের সাধনায় নিরোধ আর আপ্যায়ন দুইই অপরিহার্য, দুয়ের সমন্বয়েই সাধনায় সিদ্ধি।এর মধ্যে নিরোধের দিকে স্বভাবতই বেশী জোর পড়েছে মুনিধারায় বা শৈবভাবনায়, আর আপ্যায়নের দিকে পড়েছে ঋষিধারায়।

চলতি কথায় মদন দহনের দ্বারা কামজয় করেন শিব, আর মদনমোহনের দ্বারা বিষ্ণু, তবে সংযম উভয়ক্ষেত্রেই একান্ত প্রয়োজন।ঋকসংহিতা “শিপিবিষ্ট” বিষ্ণুর বিশেষণ এবং নামটি যে নিন্দনীয় সে ইঙ্গিতও আছে, আবার বাজসনেয়সংহিতায় এই নামটি রুদ্রেরও।নিঘন্টুতে শিপিবিষ্ট এবং বিষ্ণু দুটি নাম পাশাপাশি আছে।যাস্ক বলেন নামটি কুৎসিতার্থীয় কেননা তাতে উদীয়মান সূর্যকে অপ্রতিপন্নরশ্মি বলে অনাচ্ছাদিত পুংপ্রজননে সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, ভগের প্রতীক আমাদের সুপরিচিত শালগ্রাম শিলায়।বৈষ্ণবের শালগ্রাম আর শৈবের শিবলিঙ্গ দুইই শিপিবিষ্ট, স্থূলভাবে নিলে কুৎসিত, আর্যচেতনায় কিন্তু এটা প্রজননের প্রতীক চিহ্ন।

বাজসনেয়সংহিতায় রুদ্রের আর দুটি নাম জঘন্য এবং বুধন্য, প্রথমটার মানে বোঝায়ায়, দ্বিতীয়টি স্মরণ করিয়ে দেয় “ঊধ্বাবুধন অর্বাগবিল চমস” বা ওলটানো হাঁড়ির কথা।সমুদ্রতল হতে সূর্যোদয়ের ঠিক এইরকম। দেখা যাচ্ছে বৈদিক আর্যেরা সাক্ষাৎভাবে লিঙ্গোপাসক হয়তো ছিলেননা, তাহলেও তারা লিঙ্গ রহস্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং তাকে স্বীকারও করেছেন, কিন্তু আর্য ব্রাত্যরা এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন।আর সংহিতায় এবং ব্রাহ্মণে প্রজনন নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা আছে।প্রাণনের এই মুখ্য বৃত্তিটিকে আর্যরা উন্নাসিক অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখবার ভণ্ডামি করেননি, বরং মদন দহন এবং মদনমোহন এই দুই পৃথক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছিলেন, কালক্রমে যা এক হয়ে অন্যমাত্রায় আরাধ্য হয়ে উঠেছে।

এইবার বলা যেতেই পারে যৌনতা একটা নিকৃষ্ট বিষয় তার সঙ্গে বৈদিক দেবসত্ত্বার সম্পর্ক লজ্জার বিষয়। সেইক্ষেত্রে বলি এই ধারনাই বিকৃত। রুদ্র বিষ্ণু এই নামগুলি আদতে ঈশ্বরের গুণগত নাম, আর ঈশ্বরের প্ররোচনাতেই সৃষ্টি সম্ভব, আর লিঙ্গ হল সেই প্ররোচনার প্রতীক মাত্র, এই ক্ষেত্রে বিকৃতিটা ধারনাকারীর মানসিক ত্রুটি আর ব্যক্তিগত বিকৃতি।

যজুঃসংহিতায় শতরুদ্রীয় হোমমন্ত্রে রুদ্রের বিশ্বরূপের বর্ণনা আছে, তিনি সহস্রাক্ষ জগতের চেতন অচেতন সব কিছুই রুদ্র, পৃথিবীতে তিনি শিব,তিনিই দেবতারদের হৃদয়, মানুষের মধ্যে ঋষি ও কবি,চোর ডাকাত,নিশাচর, কামার,কুমার, নিষাদ,তিনি পশু, তিনিই সূক্ষ্ম কৃমি কীটও,মেঘ, আকাশ,জন্ম মৃত্যু সব তিনিই, তিনি ছাড়া বিশ্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *