Breaking News

“সম্মান না পেয়েই দল ছাড়ছে নেতারা” ফের বিতর্ক শতাব্দীর বক্তব্য ঘিরে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই‌লেও এদিন শতাব্দী রায়ের গলায় শোনা গেল একটু বাঁকা সুর। এইদিন তার বক্তব্যে দলের প্রতি অনুরাগ স্পষ্ট। দলীয় কর্মীদের একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা উচিত, এমনটাই বক্তব্য তার। এমনকি প্রার্থী ঘোষণার আগে তারাপীঠে পুজো দিয়ে এলেন তিনি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মুখে এধরনের মন্তব্যে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

বিধানসভা ভোটে কারা হবেন তৃণমূল প্রার্থী? শুক্রবার নিজেই সেই ঘোষণা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রী নিজেই ঘোষণা করবেন ২৯৪টি আসনে কারা হচ্ছেন তাঁর প্রতিনিধি। যদিও এর মধ্যে একটি আসন এখন ওপেন সিক্রেট। মমতা নিজেই জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম থেকে এবার ভোটে লড়বেন তিনি। এদিকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার আগে তারাপীঠে পুজো দিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। পুজোর পড়ে সাংবাদিদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী অকপটে স্বীকার করেন ‘দলের খারাপ সময়ে চলছে’। এর মাঝেই দলছাড়ার কারণ নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে সাড়া পড়ে গিয়েছে।

শুক্রবার তারাপীঠে পুজো দিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘দল থেকে যাঁরা বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা সম্মান পাননি। নেতা ও দল উভয়েরই পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। ছোট ছোট বিষয়ে দলের খেয়াল রাখা উচিত। দলের দায়িত্ব সমস্যার সমাধান করা।’ তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে শতাব্দীর এই কথায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন ফের একবার ‘দলবিরোধী’ সুর শোনা যাচ্ছে সাংসদের গলায়।

এমনকী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা জোরালো হয়। এরপরই শতাব্দীর ক্ষোভ প্রশমনে আসরে নামে তৃণমূল। এরপর সাংসদের বাড়িতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কুণালের মধ্যস্থতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শতাব্দী। সেই বৈঠকেই বরফ গলে। বৈঠক শেষেই সংবাদমাধ্যমে শতাব্দী জানিয়ে দেন, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন এবং দিল্লি যাচ্ছেন না।

দলবদল প্রসঙ্গে শতাব্দী দল বদল প্রসঙ্গে শতাব্দি রায় জানান, “এটা তো বহুদিনের দল ভাঙ্গানোর সিস্টেম। কিন্তু নির্বাচনের সময়, দলের খারাপ সময়ে যারা এই সিস্টেমের মধ্যে পা রাখছেন তাদের তা করাটা উচিত নয়।”সমস্যা নিয়ে শতাব্দি রায় জানান, “দল এবং ব্যক্তি দুই পক্ষেরই সমানভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসা উচিত। এমনটা নয় যে শুধু লোকগুলো বলবে আর দল শুনবে! বিধায়ক, সাংসদদের যেমন দলকে সম্মান দেওয়া কর্তব্য ঠিক তেমনি দলেরও কর্তব্য তাদের সম্মান দেওয়া।” শতাব্দীর আরও বক্তব্য, “দল এবং ব্যক্তি উভয়পক্ষ যদি এগিয়ে আসে সমস্যা সমাধানের জন্য তাহলে এই দলবদলের ঘটনাকে আটকানো যায়। ছোট ছোট কিছু সমস্যার সমাধান করলেই এমনটা হতে পারে। সকলের সমান দায়িত্ব সকলকে সম্মান দেওয়া।” আর এরপরেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি তৃণমূলে দলীয় কর্মীরা সম্মান পাচ্ছেন না বলে অন্য দলে চলে যাচ্ছেন? আর এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শতাব্দী সোজা সাপ্টা বলেন, “সেটাই তো বিরাট ঘটনা। ওটা একটা ঘটনা, সবারটা কমন। বাকি আলাদা আলাদা অ্যাজেন্ডা থাকতে পারে। কিন্তু মেন ওটাই(সম্মান)।”

কয়েকদিন আগে সাংসদের ফ্যান পেজ থেকে একটি পোস্ট করা হয় সেখান থেকে একটি জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা মিটেও যায়। দলের পাশেই দাঁড়ান তিনি। পরে একটি জনসভায় শতাব্দী বলেন, “সংসারে থাকতে গেলে মা, বাবা, স্বামীর বিরুদ্ধে রাগ হতেই পারে। তখন হয়তো রাগ করে পাল্টা কথাও ওঠে। তবে সেই মা , বাবা, বা স্বামীকে যদি পাশের বাড়ির কেউ, বা বাইরের কেউ টার্গেট করে কিছু বলেন, ‘তাহলে কি আপনি জবাব দেবেন না?’ তাঁর বক্তব্য, ভালোবাসার মানুষকে বাইরে থেকে কেউ কিছু বললে রুখে দাঁড়াতে হবে।” কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার আগে দল নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল।