Breaking News

বাংলার ঐতিহ্য, আজকের প্রসঙ্গ বাহা পরব। সাঁওতাল উপজাতির পরব – জাহিরাঞরা আর বাহাপরব

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার প্রাচীন লোকগাথা, ঈশ্বর আর লোকাচার ঐতিহ্য । সৃষ্টির আদি থেকে তামাদি হবার পথে এই সুপ্রাচীন বঙ্গ ইতিহাসের গৌরবজ্বল ঐশ্বরিক ইতিহাস। তারিমধ্যে যৎকিঞ্চিত ইতিহাস সমাজের মুল স্রোতে ফিরিয়ে আনার এক অমোঘ ব্রত নিয়েছেন কেও কেও । আমাদের বিশেষ কলমও তাদের জন্য। যারা দেশ-সমাজ-জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিলমাত্র সাহায্য করতে পারলেও আগামীর কাছে ঋণ শোধের এক সুবর্ণ সুযোগ। আজকে রইলো বাহা পরব আর তার ইতিহাস। কলম ধরলেন দুর্গেশ নন্দিনী।

আদিমাতা দেবী জাহের-এরা এবং বাহাপরব

“জন্মের সময় মা , জীবনের চলার পথে মা, মৃত্যুর পরেও মা। তাই মাতৃপূজা সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে ,পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র নানাবিধ ও প্রত্যয় ও প্রতীকের ভিতরদিয়ে বিচিত্র রূপে প্রচলিত রয়েছে..”

সমস্ত প্রাণীর মধ্যে মানব শিশুর শৈশব কাল দীর্ঘস্থায়ী। ফলে তাদের মাতৃ নির্ভরতা অনেক বেশি । কৃষি আবিষ্কার তথা সমাজের ব্যক্তি মালিকানা গড়ে ওঠার পুর্বে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় শিশুর কাছে মাতৃ পরিচিতিই স্পষ্ট ছিল। মায়ের কল্যাণকামী ,মমতাময়ী , দাক্ষিণ্যময়ী রূপটি শিশুর অন্তরে অঙ্কিত হত ।

মানব সভ্যতার দীর্ঘস্থায়ী আদিকালের মাতৃরূপেণী নারীর, এই রকম সামাজিক পরিবেশ, আদি শক্তিরূপে মাতৃ পূজার প্রচলন হওয়া স্বাভাবিক।

অথর্ববেদের পৃথিবীত সূক্তে(১২/১/৬) বলা হয়েছে

“বিশ্বমভরা বসুধানী প্রতিষ্ঠা হিরন্যবক্ষা জগতো নিবেসিনী।
বৈশ্বনরং বিভ্রতি ভূমিরগ্নিমিন্দ্র ঋষভা দ্রবিনেনোদধাতু।”

মা হলেন পৃথিবী। এই পৃথিবী বিশ্বমভরা, বসুন্ধরা, সুবর্ণরক্ষা এবং যা কিছু চলমান তাদের নিবেসিনী। এই ভূমি বৈশ্বানর অগ্নি কে বহন করে। ইন্দ্র তার ঋষভ। এই ভূমি আমাদের সম্পদ দান করুক। এই ভূমি আমাদের দগ্ধ দান করুক। আমি পৃথিবীর সন্তান । তোমার যে গন্ধ পুষ্পকরে প্রবেশ করেছ, অমর্ত্যগন প্রথম যে গন্ধ গ্রহণ করেছিলেন, হে পৃথিবী সেই গন্থের দ্বারা আমাকে সুবাসিত করো, আমাদের কেউ যেন হিংসা না করে। এই পৃথিবীতে শিলা আছে, মাটি আছে ,পাথর আছে, ধুলো আছে, সুবর্ণরক্ষা এই পৃথিবী কে নমস্কার করি। হে পৃথিবী তোমার বর্ষা, তোমার শরৎ , তোমার হেমন্ত , তোমার শীত ও বসন্ত, তোমার দিনরাত্রি এরা সকলে যেন আমাদের উপর রস বর্ষণ করে। তোমার গ্রাম ,তোমার অরণ্য ,তোমার ভূমি তে যে সভা সমাবেশ আমাদের সেই সম্বন্ধে চারু বাক্যই বলব। যা কিছু দেখব তাই আমার চিত্ত জয় করবে। হে মাতা, হে পৃথিবী তুমি মঙ্গল সহ আমাকে প্রতিষ্ঠিত করো। দ্যুলোকের সঙ্গে আমাদের শ্রী সম্পদ দান কর।

আর এই পৃথিবী আদি মাতা, জাহের আয়ু বা জাহের এরা নামে সাঁওতাল ,মুন্ডা প্রভৃতি ভূমি সন্তান আদিবাসী সমাজে পূজিতা মাতৃদেবিকা।কয়েকটি কেঁদ ,শাল বৃক্ষের ঝোপের অন্তরালে দেবীর থান। ইনি কোনো সুউচ্চ অট্টালিকায় প্রতিষ্ঠিত দেবী নন । এনাকে জাহের বোঙ্গাও বলা হয়। ইনি হলেন গ্রাম্য দেবী ।

দেবী কল্যাণময়ী রূপে গোষ্ঠীগতভাবে গ্রামের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করেন – প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ শোক, দুর্ভিক্ষ মহামারী, সংকট সমস্যার হাত থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করেন। ব্যক্তিগত অভিপ্সা পূরণ করেন । জাহের এরার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ আদিবাসী সমাজে আজও অক্ষুন্ন ।

কবি হরপ্রসাদ কিস্কু তাঁর বঙ্গসাড়ে কবিতায় বলেছেন , জাহিরা বা জাহের এরার প্রসাদ সমস্ত আদিবাসী সমাজ কে টিকিয়ে রেখেছে । এর থেকেই আদিবাসী জীবনে জাহের এরার প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা জন্মে। মাতৃদেবীকার উদ্ভাবন কাদের মানস জাত , দ্রাবিড় না অস্ট্রিক এই সমস্ত কূটতর্কের বেড়াজালে না জড়িয়েও নিঃসন্দেহে বলা যায় মাতৃদেবী ভাবনাটি সার্বজনীন এবং আদিমতম বটে।

মাতৃ সম্পর্কিত অনুরূপ ভাবনার উৎসমূল থেকেই বিভিন্ন মাতৃ দেবিকার ভাবনা প্রবর্তিত এবং প্রকটিত হওয়াই স্বাভাবিক এবং জাহের এড়ার ভাবনাও সেই ভিত্তির উপর স্থাপিত হয়েছে। জাহের এরার থানে কোন মূর্তি থাকে না ,পোড়ামাটির হাতি ঘোড়া ও থাকেনা । থাকে দুটি প্রতীক শিলা । যাকে আমরা রুদ্র শিব রূপে পুজো করি অর্থাৎ সেই আদিম সভ্যতার স্বয়ম্ভু দেবতার পুজো করি সেই শিলা।।শিলা গুলি পিলচু হাড়ামও পিলচু বুড়ির প্রতীক , আদিম মাতা পিতা পূর্ব পুরুষ দেবতা। এই পিলচু হাড়াম ও পিলচু বুড়ি হলেন মারাংবুরু ও জাহের এরা। যাঁরা আদিম ,স্বয়ম্ভু , সৃষ্টি স্তিতি লয়…যাঁরা শিব ও শিবানী…

আদিবাসী সমাজে পুরহিতরা লায়া বা নাইকে নামে পরিচিত। এনারা বংশানুক্রমিকভাবে পুজো করে থাকেন। আদিবাসী সমাজে এই আদিম দেবতা ছাড়াও ,গেরামর, চতুরসীমা দেবতা, বন দেবতা , পাহাড় দেবতা প্রভৃতি দেবতাদের যথাবিধি পুজো হয় ।

জাহের এরার পূজা বছরে চারবার হয়। কার্তিক, মাঘ, ফাল্গুন বা চৈত্র এবং আষাঢ় মাসে। অনুষ্ঠানের সময় কালে নিরিখে জাহেরাকে কৃষিদেবী এবং অনুষ্ঠান থেকে কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব হিসেবে ভাবা স্বাভাবিক । পূর্বে অগ্রহায়ন – মাঘ মাসে বর্ষের সূচনা হত , কৃষির হিসাবে, লৌকিক হিসাবে দেখলে নবান্ন এই সময় এখনও হয় ….আষাঢ় মাস হল রোপণ কাল এবং কার্তিক মাসকে শস্য কর্তনের প্রারম্ভিকতা সূচিত করে। কার্তিক মাসকে আদিবাসী সমাজে “সহরাই বোঙ্গা ” বলা হয়।

 

ফাগ – চৈত্র মাসের উৎসব সে দিক থেকে বেশ কিছুটা ভিন্ন । একে প্রকৃত অর্থে প্রকৃতির পূজা ভাবাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে উৎসবটির আদিমতম রূপের সন্ধান মিলতে পারে । ফাগ- চৈত্র মাসের এই উৎসবকে #বাহাপরব বলা হয়। এটি মূলত বসন্ত উৎসব বা আনন্দ উৎসব ।দোল উৎসব বা হোলি কিছু আগে পরে এই বসন্ত ঋতুতে বাহা পরব অনুষ্ঠিত হয়।

সাঁওতালি ভাষায় বাহা মানে ফুল। বাহা পরব হল সাঁওতালদের ফুলের পার্বণ। ফাগ-চৈত্র মাস আদিবাসী সমাজে বছরের প্রথম। প্রতি বছর বসন্তের শুরুতে এই পার্বণ পালন করা হয় প্রতিটি আদিবাসী গ্রামে। এই সময় বেশীরভাগ গাছের নতুন পাতা, ফুল ইত্যাদি আসে তাই আদিবাসীরা মনে করেন যে এই সময় গাছেরা প্রজননশীল হয়। তাই বাহা পরবের আগে তাঁরা গাছের ফুল, ডাল ইত্যাদি ভাঙে না। সমস্ত গ্রামবাসী এটা পালন করে। গ্রামের এই প্রান্তে ‘জাহের থান’ কে কেন্দ্র করে বাহা পরবটি পালন করা হয়।

শীত চলে গিয়েছে, শীতের রুক্ষতা কেটে গিয়ে শাল গাছে , মহুয়া, অশোক , পলাশ , শিমুল গাছে ফুল এসেছে। মনের মধ্যে নির্মল নিষ্কলুষ খুশির পরিবেশ – আনন্দ উৎসব করার প্রকৃষ্ট কাল। রিজলী সাহেব তাঁর Munda Sarhul Festival সম্পর্কে লিখেছেন ” Sarhul or Sarjam Baha spring festival corresponding to the Baha Banga of the Santals and Hos in March- April when the sal tree is in bloom. Each house hold sacrifices cock and make offering sal flowers to the founder of the village in whose honor the Festival is held…” উৎসবটিতে লায়াকে অত্যন্ত মান্যতা দেওয়া হয়।

বসন্তের প্রথম আমাবস্যার পরে আকাশে যখন নতুন চাঁদ দেখা দেয় তখন জাহের এরা আয়ু ও মারাংবুরুর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হলো শাল ফুল, মহুয়া ফুল। পূজা প্রাক্কালে একটা বড় ঘুগী মুরগি নিয়ে লায়া নিজ গ্রাম ও সম্প্রদায় ছাড়াও, সম্প্রদায় বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুরগি ,পায়রা ইত্যাদি এবং ঘর প্রতি এক কনা চাল আদায় করে । স্বেচ্ছায় দিলে তবেই সেই দ্রব্য লায়া নেন। এই ভাবে সংগৃহিকৃত উপকরণ দিয়ে জাহেরা থানে পূজা হয় ।জাহিদের পূজার অন্যান্য উপকরণ বলতে ঘৃত ,মধু , সিঁদুর, দূর্বা, আতপ চাল ,ডাল ইত্যাদি ।

পূজার নিমিত্ত সংগৃহিকৃত চাল এবং মুরগি দিয়ে যে ভোগ রান্না করা হয় সেই প্রসাদ সবাই পায় ও ঘরে নিয়ে আসা যায়। জাহের এরার পূজায় লাল মুরগা আদিবাসী সমাজে একে #হেড়াসীম বলা হয়, সেই লাল মুরগা উৎসর্গ করা হয়। এর প্রসাদ ঘরে নিয়ে আসা যায় না ।মেয়েদেরও দেওয়া চলে না । মারাংবুরুর পূজায় সাদা মুরগা উৎসর্গ করা হয়। যে গাছের নিচে জাহের এরার পূজা করা হয় সেই গাছে এবং পাশাপাশি গাছগুলোতে খরের ভাড়া বাধা হয়। শলই বা শাল ফুল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রত্যেকের চলে গুঁজে দেয়া হয় । এমনকি অনাদিবাসী প্রতিবেশীদের চালেও জাহেরার আশীর্বাদ ধন্য ফুল দেওয়া হয়।

জাহিরের পূজোর খরের ঘরের প্রতিরূপ একচালা বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র গৃহ নির্মাণ করা হয়। একদিকের চালা না করে অনুরূপ গৃহনির্মাণের কারণ হিসাবে একটি সুন্দর কিংবদন্তি আদিবাসী সমাজে আজও প্রচলিত …
কিংবদন্তি এরকম যে, ” সত্য যুগের মা আদি মাতা জাহের এর বা মহামায়া অত্যন্ত লাবণ্যময়ী এবং মমতাময়ী ছিলেন। আদিবাসীদের দুঃখ বিপদের দিনে ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের দুঃখ দূর করতেন, বিপদভঞ্জন করতেন, চাষের অসুবিধায়, খরা বা অতি বর্ষণের উদ্দেশ্যে তার কাছে আর্জি জানালে কল্যাণী দেবী সেগুলি হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতেন …এ ব্যাপারে আর্জি জানাবার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া লায়া অবলম্বন করতেন। প্রথমে লায়া দেবী জাহেরার থানে ” মাড়ুলী ” দিয়ে “এই আয়ু আয়, এই আয়ু আয়” বলে ভক্তি ভরে কাতর স্বরে ডাকতেন । আহবানে সাড়া দিয়ে যদেবী স্বশরীরে সামনে হাজির হতেন। লায়া দেবী কাছে তাঁর আর্তি জানাত এবং গ্রামে দুঃখ কষ্টের কথা সবিস্তারে জানাত। মমতাময়ী দেবিকা সেগুলি হাত থেকে তাদের রক্ষার ব্যবস্থা করতেন।

এ ঘটনা একদিন কোন এক বিধর্মীর নজরে পড়ে যায়। দেবীর সৌন্দর্য মুগ্ধ বিধর্মী তাকে পাওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহ জন্মে। উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সে কৌশলে আশ্রয় নেয় এবং লায়ার সাথে বন্ধুত্ব করে জাহেরার স্থানে যায় এবং কিভাবে আহবান করে তার বিশেষ লক্ষ্য করে। এভাবে বিধর্মী ক্রমশ জাহেরাকে আহবান এর কৌশল রপ্ত করে নেয় । বিধর্মী একা গিয়ে সেই স্থানে দেবীকে ডাকে। দেবী উপস্থিত হলে, বিধর্মী তাঁকে ছোঁয়ার মতো সাহস করে ফলে দেবী অভিশাপ দেন এবং তারপর থেকে তিনি ডাকে সাড়া দিয়ে সশরীরে আসেন না। তবে হ্যাঁ আজও আদিবাসী সমাজে এ কথা প্রচলিত যে প্রাণভরে ডাকলে মনষ্কামনা অবশ্যই পূর্ণ হয় ।”

মানব সমাজে ধারায় ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। কৃষি আবিষ্কার সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। শিকার নির্ভর করে গুহাবাসের জীবন থেকে স্থায়ী বাসের জীবনে অগ্রগতি হয়েছে। গোষ্ঠী ভেঙে পরিবার প্রথার প্রবর্তন ঘটেছে। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তিতন হয়ে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথার জন্ম দিয়েছে। গোষ্ঠী মালিকানার অবলুপ্তির পরিবার প্রথা উন্মোচিত হয়েছে। তা সত্বেও গ্রামের সার্বিক কল্যাণ এবং সুস্থিতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এক মমতাময়ী মাতৃদেবিকাকে গ্রামের প্রান্তে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার আদিমতম রূপকল্পটি আজও খুঁজে পাওয়া যায়। প্রবর্তনার কাল থেকেই দেব স্থানগুলি একই জায়গায় অবস্থান করছে । পুরোহিতরাও বংশানুক্রমিক ভাবে পুজো করেন।

বর্তমান ডিজিটাল , শহুরে যুগে কিছুটা হৃতগৌরব হলেও পশ্চিম সীমান্ত বাংলার লোক জীবনে গ্রামদেবতা এবং জাহের এরার প্রভাব সম্পূর্ণ অস্তমিত হয়ে যায়নি। কৃষিকার্যে সূচনায় ও অন্তিম পর্বের গ্রাম দেবতা ও জাহেরার পূজো দেওয়ার বিধি অনেক জায়গাতেই প্রচলিত আছে ।কোন কোন স্থানে কোন একটি বিশেষ চাষের জমিতে অধিকারী ক্ষেত্রদেবতা নামীয় গ্রাম্য দেবতার পূজা দেওয়া হয়ে থাকে।

মানভূম এমন কোন আদিবাসী গ্রাম নেই যেখানে যাই জাহের এরার থান না আছে। এদের ব্যাপকতা আছে কিন্তু বলিষ্ঠতা আছে নেই। দেবালয় বিহীন বৃক্ষতলার এইসব সমস্ত দেব দেবীরা এক হয়েও বিভিন্ন এবং বিচিত্র নামে মানভূমের গ্রামে গঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে পূজা পেয়ে আসছেন। এই একবিংশ শতাব্দিতেও গ্রামীণ মানুষের মনে তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস একটুই চিড় ধরেনি ।প্রত্যাশায় তাদের কাছে মানত ও প্রত্যাশা পূরনে মানত শোধের ধারা যথারীতি চলে আসছে। এই সমস্ত গ্রামদেবতা নিয়ে অনুসন্ধান ও আলোচনা আজও যথাযথভাবে হয়নি। অনুসন্ধান করলে লোক সংস্কারের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে । নিঃসন্দেহে গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অনালোকিত দিক উন্মোচিত হবে । এর থেকে আদিম মানব হৃদয় তথা মানব চরিত্মিত্রের সন্ধান মিলে যেতে পারে ।মিলে যেতে পারে সামাজিক বিবর্তনের কোন মূল্যবান তথ্য সূত্র…

তথ্যঃ বিজয় পন্ডা রচিত আদিবাসীদের দেবী জাহের এরা 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *