Breaking News

আজকে জানুন মা বর্গভীমার ইতিহাস। তমলুকের বিখ্যাত কালীকা মন্দীরে অধিষ্ঠিতা মা বর্গভীমা

স্টাফ রিপোর্টারঃ  প্রাচীন বাংলার মাটিতে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার ইতিহাস, পুরাণ, কিংবদন্তির ঘটনা। বাংলা মাটি যেমন বৈচিত্র্যময় ইতিহাসের সাক্ষী তেমন বাংলাকে কেন্দ্রকরে রচিত হয়েছে নানান পৌরাণিক উপাখ্যান আর কিংবদন্তী কাহানী। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এমন এমন স্থান আছে যা অত্যন্ত প্রাচীন। যার নাম ইতিহাস ও পুরাণের পাতায় উজ্জ্বল অক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে আর সেইসব স্থানকে কেন্দ্র করেই অতীতে গড়ে উঠেছে নানান কিংবদন্তি গল্প গাথা। বর্তমান মেদিনীপুর হল তেমন এক অঞ্চল যেখানে ইতিহাস, পুরাণে,মহাকাব্যে উল্লেখিত অনেক প্রাচীন জনপদের সন্ধান পাই। আর সেইসঙ্গে উল্লেখ পাই নানান ঐতিহাসিক, পৌরাণিক ও কিংবদন্তি গল্প গাথার। আসুন সেইরকম একটি মহাকাব্যিক কিংবদন্তীর ঘটনার কথা আলোচনা করা যাক আজ।

প্রাচীন যুগে নদী কুলকে বলা হত কচ্ছ। যেমন ভারতের পশ্চিম উপকূল কচ্ছ বা কাথিয়ারা, তেমনি পূর্ব উপকূলেও ছিল কচ্ছ। বর্তমানে যা মেদিনীপুর জেলার কাঁথি। “মহাভারতের আদি পর্বে উল্লেখ পাই, মহাবীর অর্জুন এসেছিলেন কচ্ছপ্রদেশে পঞ্চতীর্থের জলে স্নান করতে।” প্রাচীন মেদনীপুরের সুবর্ণরেখা,কংসাবতী, রূপনারায়ণ,দামোদর ও বর্তমানে রসুলপুর নদী(যারা প্রাচীণ নাম আমার জানা নেই) এই পাঁচটি নদীই পঞ্চতীর্থের জল বহন করত(কথিত আছে)। কিংবদন্তি এইযে পঞ্চতীর্থের জলে পাঁচজন সুন্দরী অপ্সরা বসবাস করতেন, তারা সময় সময় ডাঙাতেও বেড়াতেন।তাঁদের নেত্রী ছিলেন বর্গা। একবার বর্গাসহ চার অপ্সরা এক ব্রাহ্মণের অভিশাপে কুমীর হয়ে গেছিল। তাই তারা আর লজ্জায় ডাঙায় উঠতেন পারেনা। এইদিকে তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষও আর পুণ্যস্নান করতে পারেনা।

একবার নারদ পঞ্চতীর্থে এলে কুমীর হয়ে যাওয়া অপ্সরারা জানতে চায়, কীভাবে তাদের অভিশাপ খণ্ডন হবে। নারদ বললেন, অর্জুন এসে তাদের লজ্জা ভেঙে ডাঙায় তুললে তারা আবার আগের রূপ ফিরে পাবেন।যথাসময়ে অর্জুন এলেন।পাঁচটা কুৎসিত কুমীরকে টেনেহিঁচড়ে ডাঙায় তুললেন।কুমীরগুলো ফের রূপবতী অপ্সরা হয়ে গেল। রূপ যৌবন ফিরে পেয়ে তারা অর্জুনকে বিয়ে করতে চাইলেন। না অর্জুন তাদের বিয়ে করেননি। অর্জুনের পরে ভীম এলেন তাম্রলিপ্ততে, বকরাক্ষসকে বধ করতে। অনেকে বলেন বর্তমান গড়বেতার গনগনিডাঙার মাঠে ভীমের সঙ্গে বকরাক্ষসে ভিষণ লড়াই হয়। ভীমের পৌরুষ দেখে ভীমের প্রেমে পড়ে যায় বর্গা। ভীমেরও ভালো লাগে বর্গাকে। গার্ন্ধবমতে বিয়ে করে তাঁরা। অনেক সন্তানও জন্মায়। একসময় ভীম ফিরে যায় নিজের রাজত্বে।ভীমের বিরহে বর্গা প্রাণত্যাগ করে এক জঙ্গলে। বর্গার শরীর পাথর হয়ে জমে গিয়ে ছোট আকার ধারণ করে।

বহুযুগ পরে বনের মাঝে এক ধীবর বর্গার পাথরের মূর্তি খুঁজে পায়। সে বিগ্রহ রূপে গোপনে বর্গার পুজো করতে থাকে। পরবর্তীকালে বর্গার বিগ্রহ তমলুকের রাজবংশের অধিকারে আসে। কালক্রমে বর্গাই হয়ে ওঠেন তামলিপ্তের অধিষ্ঠাত্রী দেবী ” বর্গাভীমা” বা “বর্গাভীমা।পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের প্রাচীন মন্দিরে আজও তাঁর পুজো হয়। শাক্তদেবী বর্গভীমা নানা কাহানি-কিংবদন্তির নায়িকা, জনশ্রুতি এমন শোনা যায়, ভীম ও বর্গার সন্তানসন্ততির নাম বর্গাসোই।

আর ভীম? না, ভীমকেও ভোলেননি তমলুক তথা মেদিনীপুরবাসীরা ভীমও দেবতারূপে পূজিত মেদিনীপুরে। এছাড়াও দেবী বর্গাভীমাকে নিয়ে আরো অনেক জনশ্রুতি আছে বিশেষ করে কালাপাহাড় বা ভাস্কর পণ্ডিতকে নিয়ে। বর্তমানে দেবীবর্গভীমা উগ্রচণ্ডা, দুর্গা ও কালিকা রূপেই আরাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *