Breaking News

বাংলার শৈব সাধনার স্থল তারকেশ্বর। জানুন তারকেশ্বরের ইতিহাস

স্টাফ রিপোর্টারঃ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান শৈব তীর্থক্ষেত্র হল হুগলী জেলার তারকেশ্বর। যদিও এই তীর্থস্থানের উল্লেখ কোন হিন্দু পুরাণে পাওয়া যায়না তবুও তারকেশ্বরে প্রতিষ্ঠিত শিব কিন্তু প্রচণ্ড রকম বিখ্যাত, সারাবছর লক্ষাধিক শ্রদ্ধাশীল সাধারণ ভক্ত শিব দর্শনে তারকেশ্বরে উপস্থিত হয়ে থাকেন। বিশেষত বৈশাখ এবং শ্রাবণ মাসে দর্শনার্থী সমাগম উল্লেখযোগ্য। এইসময় আবালবৃদ্ধবনিতা ভক্তদের যেইরকম কৃচ্ছ্রসাধনা পূর্বক শিব দর্শনে ব্রতী হতে দেখা যায়, তা অভূতপূর্ব।

ইতিহাস এবং কিংবদন্তির সংমিশ্রণ থেকে যেটুকু তথ্য পাওয়া যায় সেটা এইরকম ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে হুগলী জেলার রামনগর অঞ্চলে বিষ্ণুদাস নামে এক স্থানীয় ক্ষত্রিয় রাজা রাজত্ব করতেন, রাজার ভাই ভারামল্ল ছিলেন সংসারবিবাগী যোগী। স্থানীয় গুড়েভাটা গ্রামের মুকুন্দরাম ঘোষ রাজবাড়ির গোশালা দেখাশোনায় নিযুক্ত ছিলেন।

এখন, যেখানে তারকেশ্বরের মন্দির, সেই অঞ্চলের নাম তখন ছিল তাড়পুর। সেখানে জায়গাটা তখন নলখাগড়ায় ভরা নিচু জমি ছিল আর আশেপাশে বনবাদাড়ে ঘেরা। সেই বনের মাঝে একটা রহস্যময় পাথরের ছোট স্তম্ভ ছিল। প্রবাদ এইরকম প্রচলিত যে, প্রতিদিন রাজবাড়ীর গরুরা জঙ্গলে চরতে গিয়ে ওই শিলাস্তম্ভের উপর দাঁড়াত, আর তাদের বাঁট থেকে দুধ ঝরে পড়ত।একদিন জনশ্রুতি শুনে মুকুন্দরাম বনের ভিতর গিয়ে অভূতপূর্ব দৃশ্যটি নিজের চোখে দেখলেন এইবার তিনি রাজার ভাইকে খবর দিলেন।

রাজা ভারামল্ল তখন ঐ শিলাস্তম্ভকে শিব লিঙ্গরূপে রামনগরে এনে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হলেন। কিন্তু অনেক মাটি খুঁড়েও পাথরের মূল খুঁজে পাওয়া গেল না। এরপরের জনশ্রুতি আবার এইরকম। সবাই যখন হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। সেইসময় কোন এক রাতে রাজার ভাই ভারামল্ল স্বপ্ন দেখলেন, স্বয়ং শিব তাঁকে জানাচ্ছেন যে, তিনি তারকেশ্বর শিব।তিনি ঐ বন থেকে গয়া ও কাশী পর্যন্ত ছড়িয়ে আছেন। সুতরাং তাঁকে তাড়পুরের জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ না করে ওখানেই তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হোক।

এরপর স্বপ্নাদিষ্ট ভারামল্ল ও মুকুন্দরাম রাজার সহযোগিতায় বন কেটে পরিষ্কার করে তাড়পুরেই পাথরের স্তম্ভের উপর একটি মন্দির নির্মাণে ব্রতী হলেন। মুকুন্দ ঘোষকে শিবের সেবা পুজো করবার ভার অর্পণ করা হয়।মুকুন্দরামই হলেন তারকনাথের প্রথম সেবক। বিষ্ণুদাসের মৃত্যুর পর রাজা হন ভারামল্ল।যখন মুকুন্দরাম মারা গেলেন সেইসময় ভারামল্ল ১৭২৯ খ্রিস্টাব্দে তারকেশ্বর মঠের প্রতিষ্ঠা করেন। মঠের মোহন্ত নির্বাচিত হন দশনামী শৈব সম্প্রদায়ের মায়াগিরিকে। পরবর্তীতে মায়াগিরির হাতেই মঠের দায়িত্বভার তুলে দেয় রাজা ভারামল্ল।এই হল তারকেশ্বর শৈবতীর্থের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রিত কাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *