Breaking News

হাওড়া টিকিয়াপাড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যাক্তির নাম রাজু শর্মা নয়। তার নাম

রাজ‍্যে করোনার প্রকোপ কমানোর জন‍্য কিছুদিন আগেই মুখ‍্যমন্ত্রী যে এলাকাগুলোতে করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে সেই এলাকা গুলো কে কনটেনমেন্ট এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাওড়ার একাধিক জায়গাকে কনটেমেন্ট জোন হিসাবে চিহ্নিত করেছিলো সরকার। তারমধ্যে টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডও রয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় পুরো লকডাউন ঘোষণা করা হয় প্রশাসনের থেকে‌।মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে পরিদর্শনে যায় পুলিশ।বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঐ এলাকায় বিক্ষিপ্ত জমায়েত দেখতে পাওয়ায় তা সরাতে যান তাঁরা। হঠাৎই পুলিশের উপর চড়াও হয় কিছু বিশেষ শ্রেনীর লোক। বেশ কিছু ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায় কমলা জামা পড়া এক ব্যাক্তি পেছন থেকে এক পুলিশ অফিসারের ওপর ঝাঁপ দিয়ে আক্রমন করতে উদ্যত। এছাড়াও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পুলিশকে তাড়া করছে বেশ কিছু মানুষ। একজন পুলিশকর্মীকে তো ধরেও নিয়ে যেতে দেখা যায় ভাইরাল ভিডিওতে। পুলিশকে এলোপাথাড়ি মারা হয়, ইঁট ছোঁড়া হয় । ২টি গাড়িও ভাঙচুর হয় পুলিশের।
এই ঘটনার পরই রটিয়ে দেওয়া হয়েছিলো যে ভাইরাল ভিডিওতে যাকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে মনে করা হচ্ছে তার নাম রাজু শর্মা এবং সে কোন হিন্দু সংগঠনের সদস্য এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা র উদ্দেশ্যেই এসব কান্ড ঘটানো হয়েছে এবং কোণ রকম তদন্ত না করেই বলা হয় এই ঘটনা বিজেপি এবং আর এস এসের চক্রান্ত।
কিন্তু ঘটনার পরই পুলিশ তগন্তে নেমে টার্জন এবং জিলানি নামে দুজন কে প্রথমে গ্রেফতার করে পরশুদিন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা যায় ভাইরাল ভিডিও তে কমলা রঙের জামা পরা লোকটি কে দেখা গেছে তার নাম সাকিব খান এবং সমস্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত সেই ই ।এরপরই হাওড়া পুলিশ সাকিব কে গ্রেপ্তার করে এবং আজই তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  এতবড় একটা লকডাউন ব্রেকিং এর ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও হাওড়ার ঐ এলাকায় লোকের মধ্যে কোন সচেতনতা ফেরে নি‌। এরপরও ওখানে মানুষ ক্রমাগত লকডাউন ব্রেক করে চলেছে।

যদিও ইতিমধ্যেই শ্যোশাল মিডিয়ায় ঝড় উঠতে শুরু হয়েছে যে প্রতিবারই বঙ্গে হোক বা দেশে কোন দাঙ্গা হলেই প্রথমেই তা বিজেপি এবং তার দলীয় সদস্য দের দিকে আঙ্গুল তোলা হয় এবং পর তদন্ত হলে তা উল্টো দিকে মোড় নিতে থাকে। সম্প্রতি দিল্লির দাঙ্গায় চন্দ্রাল শুক্লা বলে চালানো এক ব্যাক্তিকেও পুলিশ গ্রেফতার করার পর জানা যায় তার আসল নাম মহম্মদ শাহরুখ। এর আগেও মন্দীরে ধর্ষণ বা আরো অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিরোধী দল প্রথমে তা বিজেপির দিকে চালানো চেস্টা করে এবং পর অপরাধীর আসল নাম প্রকাশিত হয়। যদিও স্যোশাল মিডিয়া এইসবই ” সিঙ্গেল সোর্স ” নামে পরিচিত এক ট্যাগ লাইনকেই ব্যাবহার করছে যাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই ধর্মীয় ভাবে আহত হচ্ছেন বলে খবরে প্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *